যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের বেসামরিক বিমান ও পরিবহণ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির সড়ক ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফারজানেহ সাদেক জানিয়েছেন, হামলায় প্রায় ১০০টি বেসামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হামলায় বিমানবন্দর, রাডার ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় এক লাখ বাণিজ্যিক ও আবাসিক স্থাপনা ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ফারজানেহ সাদেক বলেন, শুধু রাজধানী তেহরান নয়, দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে থাকা বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাসরা, মাশহাদ ও বান্দার আব্বাসসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
প্রায় ১০০টি বিমানের মধ্যে মাত্র আটটি সচল বিমান হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। অন্য কিছু বিমান যুদ্ধের আগেই সচল ছিল না। এসব পুরোনো বিমান থেকে যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন নিয়ে সচল বিমানগুলো চালু রাখা হতো।
তবে যুদ্ধের মধ্যেও জরুরি বিমান চলাচল চালু রাখার চেষ্টা করেছে ইরান। সাদের জানান, মাত্র আটটি বিমান ব্যবহার করে ইরান এয়ার হজ ফ্লাইট পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে।
এ ছাড়া যুদ্ধ চলাকালে রেল, সড়ক ও নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনও অব্যাহত ছিল। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি পণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দিতে কাজ করেছে সরকার।
বিমানবন্দর ও রাডার ব্যবস্থায় ক্ষতি
হামলায় বিমানবন্দরের পাশাপাশি রাডার, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাডার অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে ইরানের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নেভিগেশন সক্ষমতা কিছুটা কমেছে।
তবে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি বলে দাবি করেছেন মন্ত্রী। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময়ে বিমান ওঠানামার সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও বিমান পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে পারছেন।
২৫ প্রদেশের ৪০০ শহরে হামলার দাবি
ফারজানেহ সাদেকের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের ২৫টি প্রদেশের প্রায় ৪০০ শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় এক লাখ বাণিজ্যিক ও আবাসিক স্থাপনা ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কারণে পরিবহণ ও অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্গঠনে বড় ধরনের কাজের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত ১৪০ নৌযান
শুধু বিমান পরিবহণ নয়, ইরানের নৌপরিবহণ খাতেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় প্রায় ১৪০টি বেসরকারি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মাছ ধরার ছোট নৌকা, বাণিজ্যিক জাহাজ ও ধাও-সহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান রয়েছে।
পর্যটন, যাত্রী পরিবহন এবং অন্যান্য পরিবহন-সংশ্লিষ্ট খাতেও যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে।
ইরান সরকার এখন ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দর, যোগাযোগব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখা এবং জরুরি পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


